কক্সবাজারের খরচ নিয়ে একটাই সৎ উত্তর: এটি সিজনের ওপর যতটা নির্ভর করে, আর কিছুর ওপর ততটা নয়। একই হোটেল, একই রুম — ডিসেম্বরের ছুটিতে আর জুলাইয়ের সপ্তাহের মাঝখানে দাম দুই রকম।
নিচে খরচটা ভেঙে দেখানো হলো, যাতে কোথায় বাড়ছে আর কোথায় কমানো যায় সেটা বোঝা যায়।
যাতায়াত
ঢাকা থেকে বাস সবচেয়ে প্রচলিত। নন-এসি থেকে বিজনেস ক্লাস স্লিপার পর্যন্ত অপশন আছে, আর ভাড়ার পার্থক্যও সেই অনুযায়ী বড়। রাতের বাসে গেলে একটি রাতের হোটেল খরচ বেঁচে যায় — অনেকে এই কারণেই রাতের বাস নেন।
ফ্লাইটে সময় বাঁচে অনেক, তবে খরচ বাড়ে। আগেভাগে কাটলে পার্থক্য কমে আসে; ছুটির মৌসুমে শেষ মুহূর্তে কাটলে পার্থক্য অনেক বেশি।
থাকা: এলাকাটাই দামের বড় অংশ
কলাতলী আর লাবণী পয়েন্টের কাছাকাছি হোটেলে দাম বেশি, কারণ সৈকত হাঁটা দূরত্বে। একটু ভেতরে গেলে একই মানের রুম কম দামে মেলে, বিনিময়ে প্রতিবার রিকশা বা অটো নিতে হয়।
সমুদ্রমুখী রুমের জন্য বাড়তি টাকা লাগে। দুই রাতের ট্রিপে এই একটি সিদ্ধান্তেই বাজেটের বড় অংশ নড়ে যায়।
খাওয়া
পর্যটক এলাকার রেস্টুরেন্টে দাম বেশি, বিশেষ করে সৈকতঘেঁষা জায়গাগুলোয়। বার্মিজ মার্কেটের দিকে বা স্থানীয়রা যেখানে খান সেখানে একই খাবার কম দামে পাওয়া যায়। সামুদ্রিক মাছের দাম আকার আর মৌসুম অনুযায়ী বদলায় — অর্ডারের আগে দাম জিজ্ঞেস করে নেওয়াই ভালো, বিশেষ করে ‘সাইজ অনুযায়ী’ লেখা থাকলে।
ঘোরাঘুরি
মেরিন ড্রাইভ ধরে হিমছড়ি-ইনানী দিনের ট্রিপ সবচেয়ে জনপ্রিয়। গাড়ি ভাড়া হয় গাড়ি হিসেবে, তাই গ্রুপ বড় হলে জনপ্রতি খরচ কমে।
মহেশখালী বা সোনাদিয়ার নৌভ্রমণে সাধারণত সারা দিন লাগে। হাউসবোট বা লঞ্চে প্যাকেজ ট্রিপ পাওয়া যায়, যেখানে দুপুরের খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে — আলাদা করে সব ঠিক করার চেয়ে এতে হিসাব পরিষ্কার থাকে।
কোথায় খরচ কমানো যায়
সবচেয়ে বড় সাশ্রয় তিন জায়গায়: সপ্তাহের মাঝখানে যাওয়া, সৈকত থেকে সামান্য দূরে থাকা, আর গাড়ি ভাগাভাগি করা। ছুটির দিন এড়াতে পারলে একই ট্রিপে খরচ লক্ষণীয়ভাবে কমে।
যেটা কমানোর চেষ্টা করবেন না: নিরাপত্তা। সাঁতার না জানলে লাইফ জ্যাকেট ছাড়া গভীর পানিতে যাবেন না, আর লাল পতাকা থাকলে নামবেন না।